Loading...

  • 09 Sep, 2026
সর্বশেষ

বিকেলে সর্বোচ্চ ২৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের শঙ্কা, ভোগাবে রাতেও

বিকেলে সর্বোচ্চ ২৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের শঙ্কা, ভোগাবে রাতেও

দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি অব্যাহত থাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) দিনভর বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)–এর তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এদিন বিকেল ৫টার দিকে দেশে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। শুধু বিকেলেই নয়, সন্ধ্যা ও রাতেও বিদ্যুতের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় থাকতে পারে। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে।

পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সকাল ১০টার দিকে দেশে প্রায় ১ হাজার ৩ মেগাওয়াট লোডশেডিং হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরপর দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়ে ১ হাজার ২০৩ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার কারণে সরবরাহ ও উৎপাদনের মধ্যে ব্যবধানও ক্রমশ বাড়তে পারে।

দুপুরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দুপুর ২টার দিকে লোডশেডিং বেড়ে ১ হাজার ৪৭১ মেগাওয়াট হতে পারে। এরপর বিকেল ৩টার দিকে ঘাটতি আরও বেড়ে ২ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াটে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিকেল ৪টার দিকে লোডশেডিং ২ হাজার ৫৯৩ মেগাওয়াট হতে পারে। এর এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ বিকেল ৫টার দিকে দিনের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের পূর্বাভাস রয়েছে।

বিদ্যুতের চাহিদা সাধারণত দিনের বিভিন্ন সময়ে ওঠানামা করে। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যার দিকে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য স্থাপনায় বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ে। এ সময় উৎপাদন পর্যাপ্ত না থাকলে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন বিতরণ ব্যবস্থায় লোড কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হয়। শনিবারও এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিকেল ৫টার পর লোডশেডিং কিছুটা কমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাসে দেখা গেলেও রাতের দিকে আবার বিদ্যুতের ঘাটতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে লোডশেডিং প্রায় ২ হাজার ২১৬ মেগাওয়াট হতে পারে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তা কমে ১ হাজার ৫২৮ মেগাওয়াটে নামতে পারে। তবে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আবার বেড়ে ২ হাজার ৭৭০ মেগাওয়াট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাত ৮টার দিকেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ সময় প্রায় ২ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রাত ৯টার দিকে ঘাটতি ২ হাজার ৭০৩ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। ফলে দিনের ব্যস্ত সময় পার হওয়ার পর রাতেও বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

পিজিসিবির তথ্য বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, রাত ৯টার দিকে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা দিনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। ওই সময় মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াট হতে পারে। বিপরীতে উৎপাদন ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। চাহিদা ও উৎপাদনের এই ব্যবধানের কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লোডশেডিং হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাত ১০টার দিকেও বিদ্যুতের ঘাটতি পুরোপুরি দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ওই সময় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার ৯৭০ মেগাওয়াট হতে পারে। বিপরীতে উৎপাদন হতে পারে ১৫ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এ সময় লোডশেডিং প্রায় ২ হাজার ১৬৮ মেগাওয়াট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ রাত গভীর হওয়ার পরও বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুতের এই ঘাটতি অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বাসাবাড়িতে আলো, ফ্যান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকলে অনলাইনভিত্তিক কাজ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং বিভিন্ন জরুরি সেবা পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও ঘন ঘন লোডশেডিং বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। উৎপাদন কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎস ব্যবহার করে থাকে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণও বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ঘাটতি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে গত কয়েক দিনেও দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা গেছে। ফলে লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গরমের সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। দিনের পাশাপাশি রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুম, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে সমস্যায় পড়তে হয় মানুষকে।

শনিবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিকেল ৫টায় সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৯৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। এরপর সন্ধ্যায় সাময়িকভাবে ঘাটতি কমলেও রাত ৭টা থেকে আবার তা দুই হাজার মেগাওয়াটের বেশি থাকতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শনিবার রাত পর্যন্ত লোডশেডিং মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে।

বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও জাতীয় গ্রিড ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে চাহিদার সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে লোডশেডিংয়ের চাপ কমানো সম্ভব। বর্তমানে যেহেতু উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকার পূর্বাভাস রয়েছে, তাই বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।