Loading...

  • 11 Sep, 2026
সর্বশেষ

বিদ্যুৎ সংকটে আশার কথা—স্বল্প সময়েই লোডশেডিং কমার আভাস তথ্য উপদেষ্টার

বিদ্যুৎ সংকটে আশার কথা—স্বল্প সময়েই লোডশেডিং কমার আভাস তথ্য উপদেষ্টার

দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে স্বস্তির আশ্বাস দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানিয়েছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ কমে আসবে। তাঁর এই বক্তব্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতিতে ভোগা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। বাসাবাড়ির পাশাপাশি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মানুষের জীবনযাত্রায়। বিশেষ করে দিনের ব্যস্ত সময়ে কিংবা রাতের সময়ে বিদ্যুৎ চলে গেলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।

লোডশেডিংয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় আবাসিক গ্রাহকদের। বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরের বৈদ্যুতিক পাখা, বাতি, ফ্রিজসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। গরমের সময়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকা বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং কর্মজীবীদের কাজেও ব্যাঘাত ঘটে।

ব্যবসা ও শিল্প খাতেও লোডশেডিংয়ের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিয়মিত হলে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠানকে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা অন্যান্য ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হয়, যার ফলে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের অতিরিক্ত ব্যয় আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ অবস্থায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই লোডশেডিং কমানোর আশ্বাস সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে লোডশেডিং কমাতে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করা গেলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও সহজ হবে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেরও সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। তাই লোডশেডিং কমানোর উদ্যোগ শুধু জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয় নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘোষিত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে। একই সঙ্গে কোন এলাকায় কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে, সে বিষয়ে আগাম ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া হলে গ্রাহকদের দুর্ভোগ কিছুটা কমানো সম্ভব। বিশেষ করে হাসপাতাল, জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

লোডশেডিং কমে এলে জনজীবনে স্বস্তি ফেরার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিদ্যুৎ সরবরাহের স্থিতিশীলতা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখন দেখার বিষয়, তথ্য উপদেষ্টার দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী কত দ্রুত লোডশেডিংয়ের মাত্রা কমে আসে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে যায়।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও প্রয়োজন। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, সঞ্চালন অবকাঠামো ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকটের চাপ কমানো সম্ভব হবে। আপাতত সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় রয়েছে—স্বল্প সময়ের মধ্যে লোডশেডিং কমার আশ্বাস বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়।