দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা শিগগিরই কেটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানিয়েছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তাঁর এই বক্তব্যের পর গ্যাস সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষ, শিল্পকারখানা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
গ্যাস বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাসাবাড়িতে রান্নার পাশাপাশি শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে এর প্রভাব শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা ছড়িয়ে পড়ে জনজীবন ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া বা সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকার মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য গ্যাস সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় রান্নার কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। কোথাও আবার দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাসের চাপ থাকলেও অন্য সময়ে তা একেবারেই কমে যাচ্ছে। এতে পরিবারের দৈনন্দিন কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে অনেকে সিলিন্ডার বা অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার করছেন, যার ফলে বাড়তি খরচও হচ্ছে।
শিল্প খাতেও গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী সংকট হলে এর প্রভাব কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বাজার পরিস্থিতিতেও পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার খবর শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হলে গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন খাতের কার্যক্রমেও স্বাভাবিক গতি ফিরে আসতে পারে। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ ব্যবস্থা, চাহিদা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর।
গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে নির্ভরযোগ্য ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সংকটের কারণ সম্পর্কে গ্রাহকদের স্পষ্ট তথ্য দেওয়া এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সাময়িকভাবে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের বিকল্প নেই। গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিভিন্ন সেবা খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য স্থিতিশীল সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সেটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলের।
গ্যাস সংকট দ্রুত নিরসন হলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন আবাসিক গ্রাহকরা। পাশাপাশি শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়া, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি ফিরে আসা এবং মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনাও তৈরি হবে। ফলে ঘোষিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এখন সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।