Loading...

  • 25 Aug, 2026
সর্বশেষ

নুসরাত হত্যা মামলা: ‘ঢালাও’ ফাঁসির রায় দেওয়া বিচারকের ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ

নুসরাত হত্যা মামলা: ‘ঢালাও’ ফাঁসির রায় দেওয়া বিচারকের ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ

ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া ‘নির্বিচার’ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সমালোচনা করে তৎকালীন ট্রাইব্যুনাল বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এদিন নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে চূড়ান্ত রায় দেন আদালত।

রায়ে হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং চার আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারিক আদালতের রায় প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন উচ্চ আদালত।

হাইকোর্ট বলেন, কোনো মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মতো সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতকে অত্যন্ত সতর্কতা, পর্যাপ্ত প্রমাণ এবং প্রত্যেক আসামির ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা বিশ্লেষণ করতে হয়। কিন্তু এ মামলায় যেভাবে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে আদালত মন্তব্য করেন। এ কারণে বিচারক মামুনুর রশিদের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাত ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

মামলা প্রত্যাহার না করায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। একই বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সেই রায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্টের এই রায় মামলাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন ও ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণের গুরুত্বও তুলে ধরেছে উচ্চ আদালত।