নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া দেশের সব নাগরিকের সভা-সমাবেশ করা, মতপ্রকাশ এবং সরকারের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, জনগণ যাতে কোনো ধরনের ভয় বা চাপ ছাড়াই নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে, সে ধরনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, গুম, মিথ্যা মামলা এবং সংবিধান সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কথা বলেন।
সভা-সমাবেশ ও সরকারের সমালোচনার অধিকার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাড়া অন্য সব সংগঠন ও নাগরিকের শান্তিপূর্ণভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে। একইভাবে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড কিংবা নীতির সমালোচনা করাও নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। জনগণ যেন নির্ভয়ে তাদের কথা বলতে পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ওপর রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মানবাধিকার পরিস্থিতি ও গুমের অভিযোগ নিয়েও বক্তব্য দেন আইনমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ছয় মাসে দেশে একটি গুমের ঘটনা ঘটেছে এবং আরও তিনটি ঘটনার তদন্ত চলছে। গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
দেশে মিথ্যা মামলা হচ্ছে কি না—এমন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে কোনো মিথ্যা মামলা হচ্ছে না, এমন কথা বলা যাবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইন নিয়েও সেমিনারে আলোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনে কিছু জটিলতা রয়েছে, যেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পর্যালোচনা শেষে আইনটি সংসদে উত্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনটি কার্যকর হলে মানবাধিকার সুরক্ষা এবং গুম প্রতিরোধে আরও কার্যকর কাঠামো তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান যতদিন কার্যকর থাকবে, ততদিন সময় ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতে সংস্কার আনার প্রয়োজন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রস্তাব ও নাম এখনো হাতে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। প্রস্তাব পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন আইনমন্ত্রী।
দেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে এবং অতীতের দিকে ফিরে যাওয়া যাবে না। সরকারের কাজে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা সেগুলো সংশোধন করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলাই সনদের পথ অনুসরণ করে এগিয়ে যাওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সেমিনারে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনার অধিকার স্বীকার করে নেওয়ার বিষয়টি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।