Loading...

  • 25 May, 2026

তথ্যের জগৎ আর নিয়ন্ত্রণের জায়গায় নেই: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যের জগৎ আর নিয়ন্ত্রণের জায়গায় নেই: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে তথ্যের জগৎ এখন আর নিয়ন্ত্রণের জায়গায় নেই। তথ্যপ্রবাহের এই উন্মুক্ত বাস্তবতায় সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, তথ্য ব্যবস্থাপনার ধরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তাদেরও নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।

রোববার (২৪ মে) রাজধানীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল যোগাযোগ, জনসম্পৃক্ততা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা হয়।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে তথ্য খুব দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের দায়িত্বও বেড়েছে। তিনি বলেন, “ইনফরমেশন ইকোসিস্টেম এখন অনেক বড় ও জটিল। পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য জনসংযোগ কর্মকর্তাদের এই আধুনিক তথ্য ব্যবস্থার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, সেবা এবং জনগণের জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জনসংযোগ কর্মকর্তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু তথ্য সরবরাহ করাই নয়, জনগণ বাস্তবে সেই সেবা ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া আধুনিক জনসংযোগ কল্পনাই করা যায় না। তাই তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবস্থাপনা এবং অনলাইন যোগাযোগ কৌশলে পারদর্শী হতে হবে। তিনি বলেন, “সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ ও আধুনিক জনসংযোগ টিম গড়ে তোলা এখন অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের তথ্য ক্যাডারে তিন শতাধিক কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এই কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলতে সরকার বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তথ্য ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী জনসংযোগ কর্মকর্তাদের “পাবলিক সাইকোগ্রাফি” বা জনগণের মানসিক প্রবণতা ও আচরণগত বিষয় সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনগণ কী ধরনের তথ্য চায়, কোন তথ্য কীভাবে গ্রহণ করে এবং কোন ধরনের বার্তা মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকলে কার্যকর জনসংযোগ সম্ভব হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা ও অপতথ্য শনাক্ত করতে এআই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন ফ্যাক্ট চেক করার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে ব্যবহার করা সম্ভব।”

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি যে ইশতেহার ঘোষণা করেছিল, তা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। সরকারের ইতিবাচক কাজ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জনসংযোগ কর্মকর্তাদের বড় ভূমিকা রয়েছে। এজন্য সরকারি নীতিমালা, পরিকল্পনা ও ইশতেহার সম্পর্কে কর্মকর্তাদের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে দ্রুত, নির্ভুল এবং দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারই হতে পারে জনগণের আস্থা অর্জনের প্রধান উপায়।

ট্যাগ:
তথ্যমন্ত্রী, জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য মন্ত্রণালয়, জনসংযোগ কর্মকর্তা, ডিজিটাল যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, এআই, তথ্য ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সরকার, ইয়াসের খান চৌধুরী

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy