বুধবার (২৭ মে) বিকেলে তাঁদের হাট পরিদর্শনের কথা থাকলেও দুপুর পর্যন্ত হাট এলাকায় জমে ছিল বর্জ্য, কাদা ও ময়লা-আবর্জনা। বিশেষ করে উত্তরা সেন্টার মেট্রো স্টেশনের নিচের অংশে ছিল অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। তবে প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসকের আগমনের ঠিক আগে সেখানে শুরু হয় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা তিনটায় প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসকের হাট পরিদর্শনের কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। এ উপলক্ষে বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে সিটি করপোরেশনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাট এলাকায় শুরু হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর সোয়া দুইটার দিকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা হাট এলাকায় এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর একটি পে-লোডার আনা হয় এবং সেটি দিয়ে সড়কে জমে থাকা ময়লা ও পশুর বর্জ্য সরানো শুরু হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঝাড়ু, বেলচা ও অন্যান্য সরঞ্জাম ব্যবহার করে হাটের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
এ সময় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা শওকত ওসমানকে। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ভূঁইয়া। কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে দ্রুতগতিতে হাটের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করা হয়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় বেশি ময়লা জমে ছিল, সেখানে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হাটে আসা ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ বলছেন, কয়েক দিন ধরেই হাটের পরিবেশ ছিল নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। পশুর বর্জ্য, কাদা ও দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। তবে দীর্ঘ সময়েও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। অথচ প্রতিমন্ত্রী ও প্রশাসকের পরিদর্শনের খবর পাওয়ার পরই হঠাৎ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এত তৎপরতা শুরু হয়েছে।
একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম থাকলে হাটের পরিবেশ অনেক ভালো রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কেউ পরিদর্শনে এলে তবেই দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাঁদের মতে, এটি শুধু এই হাটের চিত্র নয়; অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমে এমন প্রবণতা দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির পশুর হাটে পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। পশুর বর্জ্য দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে দুর্গন্ধের পাশাপাশি রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সাময়িকভাবে নয়, পুরো হাট চলাকালীন সময় নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী ও ডিএনসিসি প্রশাসকের সফরকে কেন্দ্র করে হাট এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান কি শুধু ভিআইপি সফরকেন্দ্রিক, নাকি ঈদ পর্যন্ত নিয়মিতভাবে একই তৎপরতা বজায় থাকবে