রাজধানীর অন্যতম নান্দনিক জলাধার হাতিরঝিলের পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরেজমিন পরিদর্শন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর শনিবার সকাল থেকে হাতিরঝিল এলাকায় ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই রাজউকের তত্ত্বাবধানে প্রায় দেড় শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী হাতিরঝিল লেক ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা আবর্জনা অপসারণে কাজ শুরু করেন। লেকের ভাসমান বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কর্মীরা বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে প্লাস্টিক, পলিথিন, খাদ্যবর্জ্য এবং অন্যান্য ময়লা অপসারণ করছেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিচ্ছন্নতার সামগ্রিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় বেশ কয়েকটি এলাকায় সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা ও অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তার নজরে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে কোরবানির বর্জ্য এবং পূর্বে জমে থাকা ময়লা সঠিকভাবে অপসারণ না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
পরিদর্শনের পর প্রশাসনিক পর্যায়েও বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকার ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাতিরঝিলে চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, কোরবানির ঈদের সময় লেকের আশপাশে মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক সময় অতিরিক্ত বর্জ্য জমে যায়। ফলে প্রতি বছরই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। তিনি জানান, লেকের পরিবেশ রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, হাতিরঝিল শুধু একটি জলাধার নয়, এটি রাজধানীবাসীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্রও। তাই এর সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন। তারা আশা করছেন, চলমান অভিযান শেষে লেকের পরিবেশ আগের তুলনায় আরও পরিচ্ছন্ন ও দর্শনীয় হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাতিরঝিলসহ রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
সব মিলিয়ে, হাতিরঝিলে শুরু হওয়া এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান রাজধানীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী এ কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।