Loading...

  • 10 Jun, 2026

পবিত্র হজ শুরু, মিনায় লাখো মুসল্লির সমবেত উপস্থিতি

পবিত্র হজ শুরু, মিনায় লাখো মুসল্লির সমবেত উপস্থিতি

পবিত্র হজ আজ সোমবার (২৫ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি ইতোমধ্যে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থান করছেন। রোববার দিবাগত রাত থেকেই হজযাত্রীরা ধীরে ধীরে তাঁবুর নগরী মিনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। চারদিকে ধ্বনিত হচ্ছে তালবিয়ার সুমধুর ধ্বনি—“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক…”।

হজ ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। প্রতি বছর জিলহজ মাসে নির্ধারিত সময়ে এই মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এবারও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ সৌদি আরবে জড়ো হয়েছেন পবিত্র এই ইবাদত পালনের উদ্দেশ্যে।

হজের প্রথম ধাপ হিসেবে ৮ জিলহজ হাজিরা মিনায় অবস্থান করছেন। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ বা পবিত্র কাবা শরিফ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিনা মূলত তাঁবুর শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে হাজিরা দিন-রাত ইবাদত, দোয়া ও জিকিরে সময় অতিবাহিত করেন। হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা এখান থেকেই শুরু হয়।

পরদিন ৯ জিলহজ সকালে হাজিরা আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। মিনার প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রান্তরেই হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ‘উকুফে আরাফা’ অনুষ্ঠিত হয়। সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা সেখানে অবস্থান করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও তওবায় মগ্ন থাকবেন। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না।

আরাফাত থেকে সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় যাবেন। মিনা ও আরাফাতের মধ্যবর্তী এই স্থানে তাঁরা খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করবেন। একই সঙ্গে মিনায় জামারাতে শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের জন্য ছোট ছোট পাথর সংগ্রহ করবেন। মুজদালিফায় অবস্থান হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

১০ জিলহজ সকালে হাজিরা আবার মিনায় ফিরে আসবেন। সেখানে জামারাত আল-আকাবা বা বড় শয়তানকে প্রথম পাথর নিক্ষেপ করা হবে। একই দিন কোরবানি সম্পন্ন করা হয় এবং পুরুষ হাজিরা মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করেন। এরপর হাজিরা মক্কায় ফিরে গিয়ে পবিত্র কাবা শরিফ তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মধ্যে সাঈ সম্পন্ন করবেন।

১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে হাজিরা তিনটি জামারাতে প্রতীকী শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এগুলো হলো ছোট, মেজ ও বড় শয়তান। হজের শেষপর্বে হাজিরা মক্কায় ফিরে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করেন। এর মাধ্যমেই হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এদিকে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, নিরাপত্তা, বহুভাষিক সহায়তা এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তীব্র গরমে হজযাত্রীদের সুরক্ষায় বিশেষ মেডিকেল টিম, ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা এবং ছায়াযুক্ত বিশ্রামকেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে। এছাড়া স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর এই বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিতে পেরে মুসল্লিরা নিজেদের ধন্য মনে করছেন। তাদের প্রত্যাশা, মহান আল্লাহ যেন তাদের হজ কবুল করেন এবং বিশ্বে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করেন।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy