Loading...

  • 10 Jun, 2026

নতুন বাজেটে স্বস্তির আভাস, কমতে পারে রান্নাঘরের সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও চিকিৎসা পণ্যের দাম

নতুন বাজেটে স্বস্তির আভাস, কমতে পারে রান্নাঘরের সরঞ্জাম, কম্পিউটার ও চিকিৎসা পণ্যের দাম

আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হতে যাচ্ছে দেশের নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেট। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারের প্রথম বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করবেন। বাজেটটি পাস হলে এটি হবে বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

আসন্ন বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও গৃহস্থালি ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনার কারণে ভোক্তারা ইতিবাচক প্রত্যাশা করছেন। বাজেট-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে বেশ কিছু পণ্যের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যা সাধারণ পরিবারের ব্যয় কিছুটা হলেও কমাতে সহায়ক হবে।

সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেতে পারেন গৃহিণীরা। কারণ রান্নাঘরে নিয়মিত ব্যবহৃত বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ব্লেন্ডার, জুসার, মিক্সার, গ্রাইন্ডার, ইলেকট্রিক কেটলি, আয়রন, রাইস কুকার, মাল্টি কুকার এবং প্রেসার কুকারের মতো জনপ্রিয় পণ্য রয়েছে। পাশাপাশি সমজাতীয় আরও কিছু আধুনিক রান্নার সরঞ্জাম যেমন ইলেকট্রিক কুকার, ইন্ডাকশন কুকার ও ইনফ্রারেড কুকারের দামও কমতে পারে।

এছাড়া নিরাপদ পানি ও গৃহস্থালি সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত ওয়াটার পিউরিফায়ার এবং ওয়াটার হিটার বা গিজারের ওপরও শুল্ক ছাড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এসব পণ্য সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সুখবর আসতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ওপর কর সুবিধা দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এর ফলে ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর এবং প্রিন্টারের দাম কমতে পারে। শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী এবং অফিস ব্যবহারকারীরা এতে সরাসরি উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও এবারের বাজেটে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় অন্তত ১৫ ধরনের সহায়ক পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক হ্রাসের উদ্যোগ বিবেচনায় রয়েছে। এতে এসব পণ্যের মূল্য কমে গিয়ে ব্যবহারকারীদের আর্থিক চাপ কমতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে বলে জানা গেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ব্যয় কমাতে রোগীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।

স্বর্ণ ব্যবসা খাতেও পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। বর্তমানে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রির ক্ষেত্রে উৎসে করের যে হার রয়েছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর চিন্তা করা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, স্বর্ণালঙ্কার বিক্রিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে। এতে স্বর্ণ ব্যবসা আরও গতিশীল হওয়ার পাশাপাশি ক্রেতারাও কিছুটা সুবিধা পেতে পারেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন ও ভোগ্যপণ্যের ওপর যৌক্তিক কর হ্রাস করলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। তবে চূড়ান্তভাবে কোন পণ্যে কতটা কর কমবে এবং বাজারে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা বাজেট ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।

এবারের বাজেটকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সহায়তা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন অপেক্ষা সংসদে বাজেট ঘোষণার, যেখানে এসব সম্ভাব্য সুবিধার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy