বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলাটির শুনানি পরিচালনা করবেন। এ মামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ এতে সাবেক সরকারের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বর্তমানে চারজন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক এবং ফজলে রাব্বি। অপরদিকে বাকি ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, তৎকালীন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ আরও কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা।
এর আগে গত ১০ মে প্রসিকিউশন দাখিল করা তিনটি পৃথক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ওই সময় আদালতে উপস্থিত চার আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। পরে আদালত সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের দমন করতে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা, উসকানি কিংবা উপস্থিতির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ মোট ৯ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন বহু ছাত্র, তরুণ এবং সাধারণ নাগরিক। নিহতদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিচার দাবি করে আসছিলেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ ধরনের মামলার বিচার দেশের বিচারব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন ধাপে প্রবেশ করল। এখন আদালতের কার্যক্রম এবং সাক্ষীদের জবানবন্দির ওপর নির্ভর করবে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি ও চূড়ান্ত রায়।