Loading...

  • 10 Jun, 2026

মানিকগঞ্জে হাতুড়ির আঘাতে ভাবি ও শিশুভাতিজা নিহত, বড় ভাই হাসপাতালে

মানিকগঞ্জে হাতুড়ির আঘাতে ভাবি ও শিশুভাতিজা নিহত, বড় ভাই হাসপাতালে

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে এক নারী ও তাঁর দেড় বছরের শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পরিবারেরই এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত নারীর স্বামী। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩০ মে) রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার দুর্গম বাচামারা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বাচামারা গ্রামের বাসিন্দা আমিনান খাতুন (২৮) এবং তাঁর দেড় বছরের শিশু ছেলে আসওযাদ। গুরুতর আহত আবদুস সালাম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে কয়েক দিন আগে আবদুস সালামের ছোট ভাই মো. ইউসুফ তাঁদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সেই পারিবারিক দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ রূপ নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনার রাতে বাড়ির ভেতরে অবস্থানকালে ইউসুফ হঠাৎ করে তাঁর ভাবি আমিনান খাতুন ও শিশু ভাতিজা আসওযাদের ওপর হামলা চালান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি হাতুড়ি দিয়ে তাঁদের মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার কিছু সময় পর বাড়িতে ফেরেন আবদুস সালাম। তিনি পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই তাঁর ওপরও হামলা চালানো হয়। হাতুড়ির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরা জানান, এমন নৃশংস ঘটনা আগে কখনো দেখেননি তারা। পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে একজন ব্যক্তি নিজের ভাবি ও নিষ্পাপ শিশুভাতিজার প্রাণ নিতে পারেন—এ ঘটনা স্থানীয়দের হতবাক করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা। তিনি বলেন, প্রথমে ভাবি ও শিশুকে হত্যা করা হয়, পরে বড় ভাই বাড়িতে ফিরলে তাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনাস্থল বাচামারা এলাকা উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে এবং যমুনা নদীবেষ্টিত একটি দুর্গম অঞ্চল। ফলে খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আরও তদন্ত চলছে।

ওসি আরও জানান, অভিযুক্ত মো. ইউসুফ ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে নিহত মা ও শিশুর মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে। পরিবারটির সদস্যরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক বিরোধ ও মানসিক অস্থিরতা অনেক সময় ভয়াবহ অপরাধের জন্ম দেয়। তাই পারিবারিক সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক সংলাপ, সামাজিক উদ্যোগ এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং ব্যবস্থার গুরুত্ব বাড়ানো প্রয়োজন।

মানিকগঞ্জের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, পারিবারিক সহিংসতা কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। একটি পরিবারের দুই সদস্যের প্রাণহানি এবং আরেকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোক নেমে এসেছে।

# ট্যাগ:

মানিকগঞ্জ, দৌলতপুর, হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক কলহ, হাতুড়ি হামলা, আমিনান খাতুন, শিশু হত্যা, আসওযাদ, আবদুস সালাম, মো. ইউসুফ, দৌলতপুর থানা, অপরাধ সংবাদ, বাংলাদেশ খবর, পারিবারিক সহিংসতা, মানিকগঞ্জ সংবাদ

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy