• Sun, May 2026

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: ইরানের ৬ নৌকা ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: ইরানের ৬ নৌকা ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি; সমুদ্র নিরাপত্তায় বড় অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌকা ধ্বংস করেছে এবং একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে। তবে ইরান এসব দাবি অস্বীকার করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নৌ অভিযান শুরুর পর এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরান প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নতুন নৌ অভিযান শুরু করেন, যার লক্ষ্য হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখাই তাদের উদ্দেশ্য।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে মার্কিন জাহাজে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে, তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন সেনা, ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক বিমান ও পানির নিচের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ সুরক্ষায় মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের পূর্ণ কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ভিত্তিহীন এবং প্রণালিতে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়নি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও মার্কিন নৌযান ধ্বংসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি-এ এই উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি এবং সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy