দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে পাঁচজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কঠোর নজরদারির কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে হিলি সীমান্তের ঘাসুড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দৃঢ় অবস্থানের কারণে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।
জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুল বারী জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অবৈধভাবে কোনো ব্যক্তি যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোও নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে হিলি সীমান্তসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
এদিকে লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে পুশইনের একাধিক চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। শুক্রবার রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্তে অবস্থান করা লোকজনকে আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে পাটগ্রামের পয়ষট্টিবাড়ি সীমান্তে বিজিবির কড়া অবস্থানের কারণে শূন্যরেখার কাছে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদেরও শনিবার সকালে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের ভারতীয় অংশে অবস্থান করা ব্যক্তিরাও শুক্রবার রাতের মধ্যে আরও ভেতরের দিকে সরে গেছে। এতে ওই সীমান্ত এলাকায় তাৎক্ষণিক উত্তেজনার আশঙ্কা কমেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তগুলোতে বর্তমানে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা পুশইনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিহত করা যায়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে লালমনিরহাট জেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। সীমান্তে ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বিজিবি এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ট্যাগ:
হিলি সীমান্ত, বিএসএফ, বিজিবি, পুশইন, দিনাজপুর, ঘাসুড়িয়া সীমান্ত, সীমান্ত নিরাপত্তা, লালমনিরহাট, হাতীবান্ধা, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, সীমান্ত টহল, জাতীয় সংবাদ