Loading...

  • 10 Jun, 2026

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীর কাঁচাবাজার, ক্রেতা না থাকায় হতাশ বিক্রেতারা

ঈদের ছুটিতে ফাঁকা রাজধানীর কাঁচাবাজার, ক্রেতা না থাকায় হতাশ বিক্রেতারা

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই জনশূন্য। ব্যস্ত নগরীর সড়ক থেকে শুরু করে বাজারঘাট—সবখানেই বিরাজ করছে ছুটির নীরবতা। বিশেষ করে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন এক চিত্র। যেখানে সাধারণ দিনে ভোর থেকেই ক্রেতা–বিক্রেতাদের কোলাহলে মুখর থাকে বাজারগুলো, সেখানে এখন অনেকটাই সুনসান পরিবেশ। কোথাও হাতে গোনা কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও বেশিরভাগ বাজারই প্রায় বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ ও খিলগাঁও এলাকার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সাধারণত শুক্রবার ছুটির দিনে এসব বাজারে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। কিন্তু ঈদের ছুটির কারণে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

রাজধানীর শান্তিনগর থেকে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কের পাশে প্রতিদিন ভোরে বসে অস্থায়ী কাঁচাবাজার। বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ভোরের আগেই ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পণ্য নিয়ে সেখানে হাজির হন। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় জমে ওঠে। বিশেষ করে শুক্রবারে এই বাজারে কেনাকাটার চাপ থাকে সবচেয়ে বেশি। তবে আজ সকাল ৯টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বাজার প্রায় ফাঁকা। মাত্র একটি আম ও কলার দোকান খোলা ছিল। সেই দোকানেও ক্রেতা ছিল খুবই কম।

এক যুগ ধরে এই বাজারে কলা বিক্রি করেন মহসীন। প্রতিদিন রাত ৩টার দিকে নরসিংদী থেকে কলা নিয়ে ঢাকায় আসেন তিনি। ভোরে দোকান বসিয়ে বিক্রি শুরু করেন। কিন্তু ঈদের ছুটিতে ক্রেতা না থাকায় এবার হতাশ এই বিক্রেতা।

মহসীন বলেন, “প্রতিদিনের তুলনায় আজ বিক্রি অনেক কম। মানুষ ঈদের ছুটিতে বাড়ি চলে গেছে। তাই বাজারে তেমন কেউ নেই। কিছু কলা নিয়ে এসেছিলাম, ভাবছিলাম হয়তো কিছুটা বিক্রি হবে। কিন্তু আশানুরূপ বেচাবিক্রি হয়নি।”

একটু দূরে ভ্যানে করে আম বিক্রি করছিলেন মো. সুমন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকায়। গত আট বছর ধরে তিনি শান্তিনগর-মালিবাগ এলাকার এই বাজারে বিভিন্ন ফল বিক্রি করছেন। বর্তমানে আমের মৌসুম হওয়ায় তিন মাস ধরে আম বিক্রি করছেন তিনি।

সুমন জানান, ঈদের ছুটিতে ক্রেতা কম থাকায় বিক্রিও কমে গেছে। তবে তিনি আশা করছেন, ছুটি শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরলে আবার বাজার জমে উঠবে। তিনি বলেন, “এখন মোটামুটি চলছে। ক্রেতা কম থাকায় বিক্রি কম। সবাই যখন আবার ঢাকায় ফিরবে, তখন হয়তো আগের মতো বেচাবিক্রি হবে।”

অন্যদিকে রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট এলাকার মাছের বাজারেও ছিল একই চিত্র। যেখানে সাধারণত ভোরের আগেই মাছের বাজারে হইচই শুরু হয়, সেখানে আজ কোনো দোকানই খোলা দেখা যায়নি। পুরো বাজার ছিল ফাঁকা ও নিরব।

বন্ধ দোকানগুলোর পাশে একটি চেয়ারে বসে পাহারার দায়িত্ব পালন করছিলেন শিরিনা আক্তার। প্রায় ১১ বছর ধরে তিনি এই মাছবাজারে প্রহরীর কাজ করছেন। খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকায় বসবাসকারী এই নারী জানান, বাজার বন্ধ থাকলেও নিরাপত্তার জন্য তাকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

শিরিনা আক্তার বলেন, “ঈদের সময় সবাই বাড়ি চলে গেছে। দোকানদাররাও নেই। তাই বাজার একেবারে ফাঁকা। আমি শুধু দোকানগুলো পাহারা দিচ্ছি।”

রাজধানীর অন্যান্য বাজারগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। অনেক দোকানপাট বন্ধ থাকায় সড়কগুলোতেও মানুষের চলাচল কম। ব্যস্ত ঢাকার পরিচিত যানজটও এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। ফলে নগরজীবনে এক ধরনের স্বস্তি ফিরেছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটির সময় প্রতি বছরই কিছুটা বেচাবিক্রি কমে যায়। কিন্তু এবার ক্রেতার সংখ্যা আরও কম। কারণ দীর্ঘ ছুটিতে অনেকেই আগেভাগেই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। এতে কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

সব মিলিয়ে ঈদের ছুটিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো এখন প্রায় প্রাণহীন। মানুষের কোলাহলহীন এই বাজারগুলোতে দোকান খুলে বসে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। নগরবাসী ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরলেই আবার আগের চেনা ব্যস্ততা ফিরে আসবে বলে আশা করছেন তারা।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy