Loading...

  • 25 May, 2026

ঈদের ছুটি শুরু, ফাঁকা রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল

ঈদের ছুটি শুরু, ফাঁকা রাজধানী ছেড়ে ঘরমুখো মানুষের ঢল

পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে শুরু হয়ে গেছে দীর্ঘ ছুটি। সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হওয়া সরকারি ছুটির প্রথম দিনেই রাজধানী ঢাকার চিরচেনা ব্যস্ততা অনেকটাই কমে এসেছে। সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের চাপ ছিল কম। পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, গুলশান, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় যানজট কম থাকায় মানুষ স্বস্তির সঙ্গে চলাচল করতে পেরেছেন।

ঈদের ছুটি উপলক্ষে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রাজধানী ছাড়ছেন লাখো মানুষ। কেউ বাসে, কেউ ট্রেনে, কেউ উড়োজাহাজে আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে যাত্রা করছেন। অনেককে দেখা গেছে শিশু ও প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে ভোর থেকেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন কিংবা লঞ্চঘাটের দিকে ছুটতে। গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তবে এবার আগের বছরের তুলনায় যাত্রা কিছুটা স্বস্তিদায়ক বলেই জানিয়েছেন অনেকে।

রাজধানীর সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার উপস্থিতি ছিল বেশি। একই সঙ্গে মেট্রোরেলেও যাত্রীসংখ্যা কম দেখা গেছে। অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নগরজীবনের ব্যস্ততাও কমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সাধারণ কর্মদিবসের মতো চাপ দেখা যায়নি।

গতকাল রোববার বিকেল থেকেই অনেকে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘরমুখো মানুষের উচ্ছ্বাস চোখে পড়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ছবি, বাস বা ট্রেনযাত্রার মুহূর্ত এবং ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতির নানা পোস্ট শেয়ার করছেন অনেকে। কেউ কেউ তাদের পোষা প্রাণীকেও সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

কারওয়ান বাজার এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহনের চাপ ছিল অনেক কম। সাধারণ দিনে যেখানে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে, সেখানে ঈদের ছুটির শুরুতেই রাজধানীর পরিবেশ হয়ে উঠেছে অনেকটাই নিরিবিলি। নগরবাসীর অনেকেই মনে করছেন, বছরের এই সময়টাতেই ঢাকাকে সবচেয়ে শান্ত লাগে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে টানা ছুটি শুরু হয়েছে। ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি চলবে। পাশাপাশি দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোও সাত দিনের ছুটিতে গেছে। তবে পোশাকশিল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার কিছু ব্যাংক শাখা আজ ও আগামীকাল সীমিত পরিসরে খোলা থাকবে বলে জানা গেছে।

ঈদের ছুটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ছেড়ে গ্রামের পথে মানুষের এই যাত্রা যেন বাঙালির চিরায়ত উৎসব সংস্কৃতিরই প্রতিচ্ছবি। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নগরজীবনের ব্যস্ততা পেছনে ফেলে সবাই ছুটছেন আপন ঠিকানায়।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy