Loading...

  • 25 May, 2026

চবিতে নারী শিক্ষার্থীকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, শিবিরকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের ঘোষণা

চবিতে নারী শিক্ষার্থীকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, শিবিরকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের ঘোষণা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন ভাষায় হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে ‘সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আলী আহসান মুজাহিদের সঙ্গে সংগঠনের সব পর্যায়ের জনশক্তির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে সংগঠনটি।

রোববার (২৪ মে) রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আরবি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলী আহসান মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক নারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে অত্যন্ত অশালীন, অশ্রাব্য ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের আচরণ শুধু অনৈতিকই নয়, বরং একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত স্ক্রিনশটগুলোতে দেখা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী অত্যন্ত আপত্তিকর ভাষায় মন্তব্য করেছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর সংগঠনটির শাখা সভাপতি ইব্রাহীম হোসেন রনি ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও উত্তম চরিত্র গঠনে কাজ করে থাকে। কিন্তু আলী আহসান মুজাহিদের মন্তব্য সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই তার সঙ্গে সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মী ও জনশক্তিকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির নেতারা আরও বলেন, নারীকে হেয় করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে কুরুচিপূর্ণভাবে আক্রমণ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ পরিবেশ নষ্ট করে। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করছেন, শুধু সাংগঠনিক বিচ্ছিন্নতাই যথেষ্ট নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বুলিং ও অনলাইন হয়রানির ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ট্রল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, অনলাইনে হয়রানির ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না এলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

ট্যাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চবি, ইসলামী ছাত্রশিবির, আলী আহসান মুজাহিদ, নারী শিক্ষার্থী, ফেসবুক বুলিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন হয়রানি, শিক্ষার্থী রাজনীতি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy