Loading...

  • 10 Jun, 2026

বিমানবন্দরে ৯.৬ লাখ নকল সিগারেট স্ট্যাম্প জব্দ, রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা প্রায় ৯.৪৪ কোটি টাকা

বিমানবন্দরে ৯.৬ লাখ নকল সিগারেট স্ট্যাম্প জব্দ, রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা প্রায় ৯.৪৪ কোটি টাকা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আমদানি করা একটি পণ্যচালান থেকে বিপুল পরিমাণ নকল প্রিন্টেড সিগারেট স্ট্যাম্প (ব্যান্ডরোল) জব্দ করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। জব্দকৃত চালানে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস নকল স্ট্যাম্প পাওয়া গেছে, যা ব্যবহার করে বাজারে সিগারেট সরবরাহ করা হলে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এক্সপ্রেস সার্ভিস ইউনিট) এস. এম. আবুল কালাম আজাদ বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের জন্য এজাহার জমা দিয়েছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি চীনের সাংহাই থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চার কার্টন পণ্য বাংলাদেশে আসে। ইমপোর্ট জেনারেল মেনিফেস্টে আমদানিকারক হিসেবে ‘MR JUNAINA KHAN’-এর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে চালানটির বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান শুরু করে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৩ মে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ‘হ্যান্ড ট্যাগ, প্রাইস লেবেল ও ওভেন লেবেল স্যাম্পল’ হিসেবে ঘোষিত চারটি কার্টনের ভেতরে আসলে নকল সিগারেট স্ট্যাম্প রাখা হয়েছে। প্রতিটি কার্টনে ২ লাখ ৪০ হাজার পিস করে মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার পিস স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে যে, চালানটির বিপরীতে কোনো বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ঘোষিত বিআইএন (BIN) নম্বর যাচাই করে কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি। এসব তথ্য কাস্টমস কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও জোরালো করে।

তদন্তে জানা যায়, জুনাইনা খানের পরিচয় ব্যবহার করে একটি চালান আমদানির পর একই পরিচয়ে আরও ১২টি চালান দেশে আনা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেছেন, এসব চালানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তার পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছে।

কাস্টমসের তদন্তে বিভিন্ন নথিতে আমদানিকারকের পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান BAEI Express Limited-এর জমা দেওয়া মেনিফেস্টে আমদানিকারক হিসেবে MOHIB Garments Ltd.-এর নাম উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে এয়ারলাইন্সের এয়ারওয়ে বিলে Gitech Label Solution Ltd.-এর নাম এবং যোগাযোগ ব্যক্তি হিসেবে Junaina Khan-এর নাম পাওয়া যায়। একাধিক নথিতে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য থাকায় কাস্টমসের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে পরিচয় গোপন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে নকল স্ট্যাম্প আমদানির চেষ্টা করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিধান অনুযায়ী সিগারেটের ব্যান্ডরোল বা স্ট্যাম্প শুধুমাত্র বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন থেকে সংগ্রহ করা যায়। বিদেশ থেকে এ ধরনের স্ট্যাম্প আমদানির কোনো বৈধ অনুমতি নেই। ফলে জব্দকৃত পণ্য সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এসব স্ট্যাম্প ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সিগারেট বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতো। এ কারণে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট মাস্টার এয়ারওয়ে বিলের আওতায় মোট ১১টি হাউস এয়ারওয়ে বিল ছিল। এর মধ্যে পাঁচটি চালানে অসত্য ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। বাকি ছয়টি চালান যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক-কর আদায় করে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে কাস্টমস আইন-২০২৩ অনুযায়ী চোরাচালানের অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারাও লঙ্ঘনের ইঙ্গিত মিলেছে।

তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে আরও তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধ পণ্য আমদানি, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার এবং চোরাচালান রোধে কাস্টমস ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় রাজস্ব সুরক্ষা, বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় অবৈধ আমদানি ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বহাল থাকবে।

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy