হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোন উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি রিভিশন আবেদন খারিজ করে অধস্তন আদালতের দেওয়া রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) এ মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি ঘোষণা করেন। ‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস ও অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী ও অন্যান্য’ মামলার প্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, হিন্দু দায়ভাগা আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে অধিকার লাভ করেন। সেই বিধবার জীবদ্দশায় তাঁর স্বামীর বোন ওই সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারেন না।
হাইকোর্ট আরও বলেন, বিধবা স্ত্রীর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা সীমিত হলেও তিনি কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সবার নেই। বিধবার মৃত্যুর পর যিনি আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হওয়ার যোগ্য, কেবল তিনিই ওই হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন।
আদালতের মতে, কোনো ব্যক্তির সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ আইনগত স্বার্থ না থাকলে তিনি শুধু ‘আইনগত প্রয়োজনে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়নি’—এমন যুক্তিতে মামলা করার অধিকার রাখেন না।
মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে নিজ অর্থে তাঁর ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। রামকান্তের জীবদ্দশাতেই সতীশ মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে রামকান্তও মারা গেলে তাঁর ছেলে সতীশের বিধবা স্ত্রী সাবিত্রী বালা ওই সম্পত্তির অধিকার পান।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সাবিত্রী বালা ওই জমি ড. মনজুরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করেন। তবে বিক্রয় দলিলটি জাল ও প্রতারণামূলক দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে উত্তরাধিকার স্বত্ব চেয়ে মামলা করেন রামকান্তের মেয়ে শৌল বালা দাস।
২০০০ সালের ২২ জুন পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত তাঁর মামলা খারিজ করে দেন। পরে চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে আপিল করলেও ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তা খারিজ হয়।
এরপর অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন বাদীপক্ষ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট সেই রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় বহাল রাখেন।