Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

ইলিয়াস আলী গুম: ট্রাইব্যুনালে হাজির হচ্ছেন উইং কমান্ডার সাইফ

ইলিয়াস আলী গুম: ট্রাইব্যুনালে হাজির হচ্ছেন উইং কমান্ডার সাইফ

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফকে আজ রোববার (২৩ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। পরোয়ানার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে আদালতে হাজির করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার তদন্তে ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। একই সময় তার গাড়িচালক আনসার আলীও নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি সিলেট-২ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সম্প্রতি গুমসংক্রান্ত মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি নতুন করে সামনে আসে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান গুমের মামলায় তার সাবেক দেহরক্ষী ও সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। তার সাক্ষ্যে ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া সাক্ষ্যে ইমরুল কায়েস জানান, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার আগে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় একটি অভিযানে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের সঙ্গে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্যে উঠে আসা এই তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুর রহমানের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, তদন্তের অগ্রগতিতে ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। আদালত সেই আবেদন বিবেচনা করে ৯ আগস্ট পরোয়ানা জারি করেন।

আজ তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শুনবেন। এরপর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। একই সঙ্গে তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যতে আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা তার সন্ধান দাবি করে আসছেন। বিএনপির পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে এ ঘটনায় তদন্ত ও জড়িতদের বিচারের দাবি জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমসংক্রান্ত মামলার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঘটনাটি নতুন করে বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আসায় এ বিষয়ে রাজনৈতিক ও আইনগত মহলের আগ্রহও বেড়েছে।

তবে মামলায় কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তদন্তে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া মানেই আদালতে তা প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। আজকের শুনানিতে সাইফুর রহমানকে হাজির করার পর আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা তাই মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।