কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে উপজেলার আঞ্জুমানপাড়া-ফাইসাখালী সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে পাঁচটি বস্তা থেকে মোট ৬ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধীন বালুখালী ও পালংখালী বিওপির বিশেষ টহল দল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আঞ্জুমানপাড়া-ফাইসাখালী এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ৭ থেকে ৮ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন।
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সঙ্গে থাকা পাঁচটি বস্তা ঘটনাস্থলে ফেলে পাশের গ্রামের দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা বস্তাগুলো তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতরে নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেটে রাখা ছিল বলে জানিয়েছে বিজিবি।
অভিযান চলাকালে সীমান্ত এলাকায় আরও তল্লাশি চালানো হলেও ইয়াবা ছাড়া অন্য কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের আটক করতে আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে তারা দ্রুত সরে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবার চালানটি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চলে বিভিন্ন সময় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিশেষ টহল এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে মাদক পাচার ঠেকাতে বিজিবি নিয়মিতভাবে অভিযান চালিয়ে আসছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের অভিযানে ৬ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার মাদকবিরোধী অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। একই সঙ্গে এত বড় চালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং পাচারের মূল উৎস ও নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধার করা ইয়াবা পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি পলাতক সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ঠেকাতে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।