Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

তনু হত্যা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশের পর তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গ্রেপ্তারের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, আসামি যাতে পালিয়ে যেতে না পারেন এবং আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যায়, সে জন্য তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জামিন স্থগিতের পর আত্মসমর্পণের নির্দেশ

এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান হাফিজুর রহমান। পরে ৪ আগস্ট কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

হাফিজুরের জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে বিষয়টি আপিল বিভাগে ওঠে। গত ৬ আগস্ট আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত করেন।

একই সঙ্গে হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আত্মসমর্পণ না করায় শনিবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

যেভাবে আলোচনায় আসে তনু হত্যা মামলা

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু।

ওই রাতেই সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার একটি ঝোপ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে। হাফিজুর রহমানের জামিন, জামিন স্থগিত এবং পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে।

মামলাটির তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।