Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

সংস্কার নেই, গ্যাস-বিদ্যুৎ নেই, মানুষের পেটেও ভাত নেই: আসিফ মাহমুদ

সংস্কার নেই, গ্যাস-বিদ্যুৎ নেই, মানুষের পেটেও ভাত নেই: আসিফ মাহমুদ

নির্বাচনের পর দেশের সব সমস্যার সমাধান হবে—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ক্ষমতায় আসার কয়েক মাস পরও দৃশ্যমান সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে বলা হয়েছিল নির্বাচন হয়ে গেলে দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং ক্ষমতায় গেলে সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরবে। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পাঁচ-ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও জনগণ প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত সংস্কার দৃশ্যমান নয়। একই সঙ্গে অনেক এলাকায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট রয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মানুষের জীবন সহজ হওয়ার পরিবর্তে নানা ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা।

চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের সমালোচনা করেন। তার দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে আসছে। কোথাও কোথাও জমিতে গরু-মহিষ চরানোর ক্ষেত্রেও চাঁদা দিতে হচ্ছে—এমন খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনের আগে বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতির বিষয়টিও তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির মুখপাত্র। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকলে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন না। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি পাওয়া যায়নি। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। তার মতে, এতে একটি তুলনামূলক সমতাভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এসব প্রশাসকের কেউ যদি পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হন, তাহলে নির্বাচন নিয়ে স্বার্থের সংঘাত এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বিএনপির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, দলটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও গণতন্ত্রের কথা বললেও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও দলীয় প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থে দলীয় প্রতীক বা ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়াই উচিত। তারা নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গও উঠে আসে তার বক্তব্যে। আসিফ মাহমুদ বলেন, ভারত থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরতে চান—এমন বক্তব্য শোনা যাচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার কাছ থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য এসেছে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী সঠিক বিচার নিশ্চিত করার জন্য এনসিপি প্রস্তুত রয়েছে।

সমাবেশে আসিফ মাহমুদের বক্তব্যে মূলত নির্বাচন-পরবর্তী সংস্কার, দ্রব্যমূল্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়। তার বক্তব্যে সরকারের কার্যক্রমের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও উঠে আসে।