Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

সেন্টমার্টিন নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিকল্পনা রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদ

সেন্টমার্টিন নিয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিকল্পনা রয়েছে: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদ

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য ও অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চায়।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় সেন্টমার্টিন কোস্টগার্ড স্টেশন গ্রাউন্ডে ফলজ গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দ্বীপে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি সুপারিশ পাওয়া গেছে। দ্বীপের প্রতিবেশ ও পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সেন্টমার্টিনে বসবাসকারী মানুষ দ্বীপটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সেখানে বসবাস করছেন এবং দ্বীপের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই দ্বীপ সংরক্ষণের পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ ও জীবনযাত্রার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সেন্টমার্টিন দেশের অন্যতম অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার। দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা যেমন সরকারের দায়িত্ব, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর না করে দ্বীপের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশদূষণের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব

সেন্টমার্টিনে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। রোপণ করা গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে সফল করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, দ্বীপ থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমেও স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

সেন্টমার্টিনকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই রাখতে সরকার, স্থানীয় জনগণ, বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম।

তার মতে, দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।