Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসছে ৮৬ হাজারের বেশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসছে ৮৬ হাজারের বেশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও কর্মী এই সুবিধা পাবেন। সোমবার (১০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি আগস্ট মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধ বিহার এবং ৩০১টি গির্জা। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গঠিত সেলের এক সভায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও সম্মানি ভাতার কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার, ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভায় ‘ক’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির ওয়ার্ড থেকে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির ওয়ার্ড থেকে দুটি মসজিদ নির্বাচন করা হবে। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি করে মসজিদ এ সুবিধার জন্য নির্বাচিত হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। অবশিষ্ট মন্দিরগুলো ইউনিয়ন পর্যায় থেকে নির্বাচন করা হবে। বৌদ্ধ বিহার ও গির্জার ক্ষেত্রে জেলা ভিত্তিতে মোট সংখ্যার ২৫ শতাংশ করে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হবে।

সম্মানি ভাতার আওতায় নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক মাসে ৫ হাজার টাকা করে পাবেন। মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজক পাবেন ৩ হাজার টাকা করে। মসজিদের খাদেমদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাসিক ২ হাজার টাকা

সরকারি এ সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পাঠানো হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগী বা নগদ লেনদেনের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ভাতার অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মরত নেতাদের মাসিক সম্মানী দেওয়ার জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ অর্থবছরে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে দেশের শতভাগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬ হাজার ১৭টি নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবাইতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্মানি দেওয়া হয়েছিল।