Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারের উদ্যোগ বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়ার

প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারের উদ্যোগ বাংলাদেশ-লিথুয়ানিয়ার

তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ফিনটেক ও ডিজিটাল উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে সীমিত হলেও প্রযুক্তিনির্ভর খাত, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর খাতকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাত, দক্ষ তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ফ্রিল্যান্সার সম্প্রদায় লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিশাল বাজারকে কেন্দ্র করে লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করলে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তি খাতের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠছে। বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতিগত সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েন বলেন, তাঁর দেশ প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে লেজার প্রযুক্তি, গভটেক ও ফিনটেক সেবায় লিথুয়ানিয়ার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়নে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং আধুনিক আর্থিক প্রযুক্তির মতো খাতে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।

সাইবার নিরাপত্তা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিষয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা ক্রমেই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসায় নিরাপদ ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রয়োজনও বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

একইভাবে ফিনটেক খাতেও বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্থিক প্রযুক্তি, অনলাইন ব্যাংকিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও সহজ ও গতিশীল করার সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো গেলে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ চিহ্নিত করা সহজ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং লিথুয়ানিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে কার্যক্রম সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও এ সহযোগিতার মাধ্যমে বাড়তে পারে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম হলেও নতুন নতুন খাত যুক্ত করে এই সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে প্রচলিত পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, ফিনটেক ও উদ্ভাবনকে অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন ভিত্তি হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ দেখিয়েছে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।