Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

‘পালাব না’ বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের, এক বছর পরও নেই অবস্থানের কোনো খোঁজ

‘পালাব না’ বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের, এক বছর পরও নেই অবস্থানের কোনো খোঁজ


একসময় ‘পালাব না’ বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি কোথায় আছেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলেও তার অবস্থান নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের এক জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, “আমরা এই দেশে জন্মেছি, এই দেশে মরব, পালাব না। কোথায় পালাব! পালাব না, প্রয়োজনে ফখরুল সাহেবের বাসায় গিয়ে উঠব।” ওই জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন।

এর কয়েক মাস পরই জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান ওবায়দুল কাদের। তার অবস্থান সম্পর্কে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

সরকার পতনের আগে প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো ওবায়দুল কাদেরকে গত এক বছরে আর কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি সম্পূর্ণ নীরব।

তার ‘পালাব না’ বক্তব্যটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গান, প্যারোডি এবং অসংখ্য ‘মিম’ তৈরি হয়, যা বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়।

দলীয় সূত্রের দাবি, সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ ও মধ্যম সারির নেতা দেশের বাইরে চলে গেলেও তাদের অনেকেই বিভিন্নভাবে নেতা-কর্মী বা গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে ওবায়দুল কাদেরের বিষয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, তারা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানেন না এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগও হয়নি।

ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে তিনি কোথায় গেছেন বা কী অবস্থায় আছেন, সে বিষয়ে কারও কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই।

আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ওবায়দুল কাদের সবসময় গণমাধ্যমের আলোচনায় থাকতে পছন্দ করতেন। কিন্তু সরকার পতনের পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সম্পূর্ণ আড়ালে চলে গেছেন, যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।

অন্যদিকে, দেশের বাইরে অবস্থান করে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়েও দলের ভেতরে অসন্তোষ রয়েছে। দেশের ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে দেওয়া এসব বক্তব্যের কারণে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা আরও বেশি চাপ ও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সর্বশেষ পোস্ট করেছিলেন ২০২৪ সালের ৫ জুলাই। পদ্মা সেতুর সার্ভিস এরিয়া-১ থেকে নিজের ১২টি ছবি পোস্ট করার পর আর কোনো নতুন পোস্ট বা প্রকাশ্য কার্যক্রম তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়নি।