Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া বাচ্চু রাজাকার এর আপিল গ্রহণের শুনানি ৩১ আগস্ট

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চাওয়া বাচ্চু রাজাকার এর আপিল গ্রহণের শুনানি ৩১ আগস্ট

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের (বাচ্চু রাজাকার) করা আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সোমবার (১৭ আগস্ট) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ আগস্ট আপিল বিভাগ তাঁর করা আপিলের বিষয়ে শুনানির জন্য ১৭ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছিলেন। সোমবার শুনানি শেষে আদালত তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

আবুল কালাম আযাদ ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়। ওই সময় তিনি পলাতক ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি অভিযোগে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পৃথকভাবে অন্য সাজা নির্ধারণ করা হয়নি।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। এর আগে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। আত্মসমর্পণের পর আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেন এবং আপিল বিভাগে যথাযথ আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তিনি যে অবস্থায় ছিলেন, সেই অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর চলতি বছরের ৬ জুলাই আবুল কালাম আযাদ তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তবে দীর্ঘ সময় পর আপিল করায় তিনি বিলম্ব মার্জনার আবেদনও করেছেন। তাঁর আবেদনে আপিল করতে হওয়া ৪ হাজার ৯১৫ দিনের বিলম্ব মার্জনা করার পাশাপাশি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের সামনে এখন মূল প্রশ্ন হলো—দীর্ঘ বিলম্বের পর করা আবুল কালাম আযাদের আপিলটি গ্রহণযোগ্য হিসেবে শুনানি করা হবে কি না। আগামী ৩১ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানি হবে। অর্থাৎ ওই দিনের শুনানিতে এখনই তাঁর মূল আপিলের মেরিট বা অভিযোগের চূড়ান্ত বিচার হওয়ার কথা নয়; প্রথমে আপিল গ্রহণের আইনগত বিষয়টি বিবেচনা করবে আদালত।

আবুল কালাম আযাদ একসময় বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে পরিচিত ছিলেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য (রুকন) ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকার কারণে তাঁর মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও এতদিন এগোয়নি।

এখন আপিল বিভাগে তাঁর করা আবেদনের শুনানি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৩১ আগস্টের শুনানিতে আদালত আপিলটি গ্রহণ করেন কি না, সেটিই হবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপিল গ্রহণ করা হলে পরবর্তী সময়ে মূল রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আপিলের শুনানির পথ খুলবে।