Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

মার্কিন বাহিনী ‘আমাদের ধারণার চেয়েও দুর্বল’: আইআরজিসি

মার্কিন বাহিনী ‘আমাদের ধারণার চেয়েও দুর্বল’: আইআরজিসি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সম্পর্কে ইরানের আগে যে ধারণা ছিল, বাস্তবে তারা তার চেয়েও দুর্বল বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নকদি। বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএসকে দেওয়া এক বিরল সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। পিবিএসের প্রতিবেদনে নকদিকে আইআরজিসি কমান্ডারের শীর্ষ উপদেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে নকদি বলেন, ইরান এখন পর্যন্ত সংঘাতের ক্ষেত্রে নিজেদের বিজয়ী মনে করছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা বিশ্বাস করে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাত যত দীর্ঘ হচ্ছে, ইরানের সামরিক বাহিনী ও আইআরজিসি তত বেশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাত পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাদের আগে খুব সীমিত ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

নকদির ভাষ্য, গত কয়েক মাসের সংঘাত ইরানকে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সুযোগ দিয়েছে। এই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কিছু দুর্বলতা শনাক্ত করতে পেরেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা সম্পর্কে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।

পিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত বর্তমানে একটি অনিশ্চিত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। একই সময়ে ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সাম্প্রতিক সময়ে আইআরজিসির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক দায়িত্বে নিয়োগ দিয়েছেন। এসব পদক্ষেপকে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি ও সামরিক কমান্ড আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

নকদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সম্পর্কে ইরানের পূর্ববর্তী মূল্যায়ন বাস্তব পরিস্থিতির তুলনায় অতিরঞ্জিত ছিল। সংঘাতের অভিজ্ঞতা তাদের সেই ধারণা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তবে তার এই মূল্যায়ন মূলত ইরানি সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য এবং এর স্বাধীন সামরিক যাচাই এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আইআরজিসি ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি পৃথক একটি সামরিক কাঠামো হিসেবে কাজ করে এবং এর নিজস্ব স্থল, নৌ, বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের সামরিক কৌশলে বাহিনীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিভিন্ন ছাড়ের দাবি করেছেন। একই সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতাও সমান্তরালে চলছে।

নকদির বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদল চলছে। নতুন নেতৃত্ব দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবে সংঘাতের প্রকৃত সামরিক ভারসাম্য, দুই পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও মূল্যায়নের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে নকদি সাক্ষাৎকারে ইরানের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর জোর দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি নিয়ে তার মন্তব্যকে আইআরজিসির নিজস্ব মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুদ্ধের ফলাফল বা সামরিক ভারসাম্য সম্পর্কে নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হলে উভয় পক্ষের তথ্য, স্বাধীন সামরিক বিশ্লেষণ এবং যাচাইযোগ্য যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, ইরানের আইআরজিসির কমান্ডারের উপদেষ্টা মোহাম্মদ রেজা নকদি দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পূর্বানুমানের চেয়েও দুর্বল। একই সঙ্গে তিনি চলমান সংঘাতে ইরানকে বিজয়ী দাবি করে ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তার এই বক্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানের সামরিক আত্মবিশ্বাস ও কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।