Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মারা গেছেন

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মারা গেছেন

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান ও চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর–মতলব দক্ষিণ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তার ছোট ভাই তৌফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তার মৃত্যুতে সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন শেষে রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার বাইশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পাকিস্তান বিমানবাহিনীর সারগোদা কলেজে শিক্ষা গ্রহণের পর ১৯৭১ সালে কমিশন লাভের মাধ্যমে তার সামরিক জীবনের সূচনা হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

সামরিক জীবনে তিনি পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দেন। তিনি এনডিইউ ও পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছান।

২০০১ সালের ৪ জুন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। প্রায় ১০ মাস তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি বিমানবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর সামরিক চাকরি থেকে অবসর নেন। তার অবসরের পর কোর্সমেট ফখরুল আজম বিমানবাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সামরিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ নিয়ে গঠিত এ আসনে তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতিতে প্রবেশের পর নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তার অভিজ্ঞতা এবং সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক ভূমিকা তাকে জাতীয় অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সাবেক সহকর্মী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বাদ জুমা বিমানবাহিনীর শাহি জামে মসজিদে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিমানবাহিনীর গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। জানাজায় সামরিক বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান সদস্য, রাজনৈতিক সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নিতে পারেন।

এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে বাংলাদেশের বিমানবাহিনী ও রাজনীতিতে তার দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি অধ্যায়ের অবসান হলো। সামরিক নেতৃত্ব থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তার দীর্ঘ পথচলা তাকে দেশের ইতিহাসে একটি বহুমাত্রিক পরিচয়ের অধিকারী করে তুলেছে।