দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অগণিত শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতিকে তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। গার্ড অব অনারের সময় বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন তার রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আত্মত্যাগকারী লাখো মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনের স্মারক হিসেবে তার মন্তব্য ও স্বাক্ষর রেখে যান।
পরে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্মৃতিসৌধ সফরে গাছের চারা রোপণের একটি প্রচলিত রীতি রয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই কর্মসূচিও সফরের আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আগে থেকেই পুরো এলাকা নিরাপত্তার আওতায় আনেন। রাষ্ট্রপতির যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা এবং স্মৃতিসৌধ এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল তার রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের সূচনা করেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির অন্যতম প্রধান প্রতীক। প্রতিবছর রাষ্ট্রীয় দিবসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। নতুন রাষ্ট্রপতির প্রথম স্মৃতিসৌধ সফরও সেই রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।