Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নদীর জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

পোনা অবমুক্তকরণ শেষে পাশের মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ মানুষের জীবিকার সঙ্গে মৎস্য খাতের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দেশের নদী, খাল, বিল, হাওর, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও প্রজননের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

পাকুন্দিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবির কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মুনিয়ারিকান্দি ও গফরগাঁওয়ের দত্তেরবাজার সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রকল্প গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দেশের জলাশয়গুলোতে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানো। বিশেষ করে নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মৎস্যসম্পদের ওপর নির্ভরশীলতা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের গুরুত্ব ব্যাপক। মাছ দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান প্রাণিজ আমিষের উৎস হওয়ার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও আয়ের সঙ্গে যুক্ত। মাছ ধরা, চাষ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ—মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের জীবিকা নির্ভর করে।

তবে জলাশয় দখল, দূষণ, অতিরিক্ত মাছ আহরণ, প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা না মানা এবং দেশীয় মাছের আবাসস্থল নষ্ট হওয়ার কারণে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, নিরাপদ মাছ উৎপাদন এবং আধুনিক মাছ চাষের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিতভাবে জলাশয় ব্যবস্থাপনা এবং দেশীয় মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ করা গেলে দেশের মৎস্য উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

পাকুন্দিয়ায় মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিকে সেই বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জেলেসহ মৎস্যনির্ভর জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারিত হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের কর্মসূচিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন ও যোগাযোগ অবকাঠামো নিয়ে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতিও পাকুন্দিয়াবাসীর মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।