Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস-সংকট, ভারী শিল্পে সরবরাহ বন্ধ

চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস-সংকট, ভারী শিল্পে সরবরাহ বন্ধ

চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্য একটি টার্মিনাল থেকে সীমিত পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। ফলে নগরীর শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক গ্রাহকরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।

কর্ণফুলি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় আপাতত ভারী শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। একই কারণে অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্পকারখানাও উৎপাদন চালাতে পারছে না। জনদুর্ভোগ কিছুটা কমাতে শিল্প খাতে সরবরাহ কমিয়ে আবাসিক গ্রাহক ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. নাছির উদ্দিন জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজিবাহী কার্গো টার্মিনালে ভেড়ানো বা গ্যাস স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সামিট গ্রুপের টার্মিনালের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য টার্মিনাল থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাবি, সংকটের মধ্যেও জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামের জন্য পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাস বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। বরং চট্টগ্রামের সংকট আরও বাড়িয়ে এলএনজি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্প খাত।

নগরীর সিইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, কালুরঘাট, সীতাকুণ্ড, নাসিরাবাদ ও পতেঙ্গা শিল্প এলাকায় গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক না থাকায় শিল্পকারখানাগুলো দ্বিমুখী সংকটে পড়েছে।

এদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর গণপরিবহন সংকটে পড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে। আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক জায়গায় দিনের বড় একটি সময় রান্নার চুলা জ্বলছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমতে শুরু করে। তখন দৈনিক এলএনজি সরবরাহ ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমিয়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়েছিল। পরে গত মঙ্গলবার থেকে সরবরাহ আরও কমে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

কর্ণফুলি গ্যাস কোম্পানির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সংকটের কারণে ভারী শিল্পকারখানাগুলোকে সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। শিল্প খাতে সাশ্রয় হওয়া গ্যাস আবাসিক গ্রাহক ও সিএনজি স্টেশনগুলোতে সরবরাহ করে জনদুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি আমিরুল হক বলেন, গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিশেষ করে রপ্তানি খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।