Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

বর্তমানে যে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট হচ্ছে, এর দায় সরকারের নয়: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব

বর্তমানে যে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট হচ্ছে, এর দায় সরকারের নয়: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব

বর্তমানে দেশে যে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে, এর জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংকট সমাধান করা সরকারের জন্য সহজ নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জ্বালানি সংকট, প্রশাসন ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, জ্বালানি খাতে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলোর জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয়। দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এসব সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

মুখ্যসচিব বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নিয়ে সরকার কাজ করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া কোনো সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য সরকারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য মাত্র পাঁচ মাস কোনোভাবেই যথেষ্ট সময় নয়। দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার বিষয়টিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

আগের সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের শাসনামলে জনপ্রশাসনকে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনের কার্যক্রমে যে ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলোও বর্তমান সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রশাসনকে আরও কার্যকর, দক্ষ ও জনবান্ধব করার জন্য সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকার সঠিকভাবেই দেশ পরিচালনা করছে। তবে একসঙ্গে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা সমাধানেও সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে।

মুখ্যসচিবের মতে, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতি। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতকে পুনরুদ্ধার ও স্থিতিশীল করার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো রয়েছে, সেগুলো সমাধানে সরকার ধাপে ধাপে কাজ করছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিবেশ উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং আবাসিক গ্রাহকদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। গ্যাসের সংকটের প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়ছে। ফলে কোথাও কোথাও লোডশেডিং বাড়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিসভায় ১৮০ দিনের মাথায় কোনো ধরনের রদবদল হতে পারে কি না—এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসের সময়কে সামনে রেখে মুখ্যসচিবের বক্তব্যে মূলত দীর্ঘদিনের সংকট মোকাবিলায় সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটসহ দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব বর্তমান সরকারকে নিতে হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সংকট সমাধানে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন বড় প্রত্যাশা। বিশেষ করে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখা এবং আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমানোর জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।