Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

বিএনপি ও সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি যারা

বিএনপি ও সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে সম্ভাব্য উত্তরসূরি যারা

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি। ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বিএনপি ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে নতুন নেতৃত্ব আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে সংসদ সচিবালয় তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য ঘোষণা করবে। এরপর সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ মহাসচিবের দায়িত্ব কে নেবেন—এ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনজন নেতার নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর মতে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে অথবা কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দলটি প্রথমে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিল বা এর কাছাকাছি সময়ে মহাসচিব পদে স্থায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দলের সাংগঠনিক রীতির কারণে রুহুল কবির রিজভীর নাম এ ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি আলোচনায় রয়েছে। তিনি এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি এবং মন্ত্রিসভাতেও তাকে রাখা হয়নি। ফলে মহাসচিব পদ শূন্য হলে তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলের অনেক দায়িত্বশীল নেতা মনে করছেন। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পরে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি ভারমুক্ত হন।

অন্যদিকে সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও মহাসচিব পদের আলোচনায় রয়েছে। তবে দুজনই বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে তাদের কাউকে মহাসচিব করা হবে কি না, তা নিয়ে দলের ভেতরে ভিন্নমত রয়েছে।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও পরিবর্তন আসতে পারে। ওই মন্ত্রণালয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, নাকি বর্তমান মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে—এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমানে জাতীয় সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে।