Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: শেখ হাসিনার ফোনালাপ ঘিরে নতুন বিতর্ক

আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: শেখ হাসিনার ফোনালাপ ঘিরে নতুন বিতর্ক

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট (I-Unit)। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের হাতে আসা একটি ফোনালাপের অডিওতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে শোনা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রেকর্ড হওয়া একটি ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়, নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘ওপেন’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালাতে বলা হয়েছে। আল জাজিরার দাবি, অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে তারা অডিও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিশ্লেষণ এবং ভয়েস ম্যাচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আরেকটি ফোনালাপে তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। যদিও ওই সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল।

আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের বক্তব্যও প্রকাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় এমন কিছু আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল, যাদের শরীরে অস্বাভাবিক ধরনের গুলির আঘাত দেখা যায়। তবে কী ধরনের অস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলায় প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী জানতেন তার ফোনালাপ নজরদারির আওতায় ছিল।

এ ছাড়া প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন নিয়েও নতুন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আল জাজিরার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ফোনালাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। একই প্রতিবেদনে এক চিকিৎসকের অভিযোগও প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তিনি দাবি করেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে পরিবর্তন আনার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, আল জাজিরাকে দেওয়া লিখিত প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের এক মুখপাত্র এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা কখনোই ‘প্রাণঘাতী অস্ত্র’ ব্যবহারের নির্দেশ দেননি এবং প্রকাশিত ফোনালাপ আংশিক, বিকৃত বা সম্পাদিত হতে পারে। একই সঙ্গে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে তৎকালীন সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আল জাজিরার এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান এবং সংশ্লিষ্ট দাবিগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।