Loading...

  • 24 Aug, 2026
সর্বশেষ

আগামী সপ্তাহের শেষে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

আগামী সপ্তাহের শেষে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্ভাব্য এই সফরকে সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা ও নয়াদিল্লির বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে এনডিটিভি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরের বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি।

সফরটি চূড়ান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। সম্ভাব্য দুই দিনের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকসের আউটরিচ অধিবেশনেও বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

প্রথমবার বৈঠকে বসতে পারেন তারেক-মোদি

তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য বৈঠককে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং তাঁর ভারতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

নতুন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিল মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এরপর গত ১০ আগস্ট ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো এবং শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের বিষয়ও আলোচনায় আসে।

আলোচনায় থাকতে পারে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ

সম্ভাব্য তারেক-মোদি বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে উঠে আসতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভারতে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা সেখানেই অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর তাঁকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি প্রচলিত আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত থেকে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথা বলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ঢাকার পক্ষ থেকে এ ঘটনায় ভারতের অবস্থানের সমালোচনা করা হলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল না।

বাণিজ্য, পানি ও সীমান্ত ইস্যুও গুরুত্ব পাবে

সম্ভাব্য বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্য।

পানি বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো বা নবায়নের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়ছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি ও প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচির ওপরই সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

সূত্র: এনডিটিভি