দেশে একদিকে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখেরও বেশি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে রয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম, স্থানীয় সেবা এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব সিভিল অফিসার্স অ্যান্ড স্টাফ-২০২৫’-এর খসড়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে অনুমোদিত প্রায় ১৯ লাখ ৮৬ হাজার সরকারি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ১৪ লাখ ৬৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। অর্থাৎ প্রায় ৫ লাখ ২২ হাজার পদ এখনো শূন্য রয়েছে।
জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে অন্তত ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি পদ খালি রয়েছে। এসব শূন্য পদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে মাঠপর্যায়ের সেবা সংশ্লিষ্ট গ্রেড ১৩ থেকে ২০-এর পদ, যা নাগরিক সেবা প্রদানে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবসর, নতুন পদ সৃষ্টি এবং চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের কারণে সরকারি চাকরিতে কিছু পদ সবসময়ই শূন্য থাকে। তবে দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করে জনসেবার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দ্রুত শূন্য পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সরকারি চাকরিতে শূন্য পদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১০ সালে যেখানে শূন্য পদ ছিল প্রায় ২ লাখ ৪৪ হাজার, সেখানে ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ ৭৩ হাজারে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে। এক বছরের ব্যবধানে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার। তবে অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, প্রকৃত বেকারের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়োগ বিধির জটিলতা, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম ধীরগতির হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে জনবল সংকটে সরকারি সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা বিপুলসংখ্যক তরুণ দীর্ঘদিন বেকার থাকছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণ করা গেলে সরকারি সেবার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি লাখো শিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।