Loading...

  • 17 Oct, 2026
সর্বশেষ

যুদ্ধবন্দি হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ, ইউক্রেনের কাছে ক্ষমা চাইল দক্ষিণ কোরিয়া

যুদ্ধবন্দি হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ, ইউক্রেনের কাছে ক্ষমা চাইল দক্ষিণ কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশের ঘটনায় ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সিউলের অভিযোগ, দুই দেশের মধ্যে গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে সমঝোতা থাকার পরও ইউক্রেন একতরফাভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেছে এবং পরে এমন কোনো গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না বলে দাবি করেছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের জনসংযোগবিষয়ক সিনিয়র সচিব সং ঘি-হং এক বিবৃতিতে বলেন, ইউক্রেনের একতরফা তথ্য প্রকাশ এবং পরবর্তী সময়ে গোপনীয়তা চুক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করার ঘটনায় সিউল গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। তিনি ইউক্রেনের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান। প্রয়োজন হলে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

কী নিয়ে বিরোধ

বিতর্কের সূত্রপাত হয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় আটক হওয়া উত্তর কোরিয়ার দুই সেনাকে সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে সিউল ও কিয়েভের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবন্দিদের হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার জন্য ইউক্রেনের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিয়েভ আশঙ্কা করেছিল, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে বন্দিবিনিময়ের সুযোগ নষ্ট করার অভিযোগ উঠতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়াও কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিষয় বিবেচনায় গোপনীয়তা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছিল বলে সিউলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কেবল দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের বিষয়টি জানিয়েছে। গোপনীয়তা চুক্তি ছিল কি না, তা নিয়েই দুই দেশের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দিয়েছে।

যুদ্ধবন্দিদের হস্তান্তর

ইউক্রেন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চল থেকে উত্তর কোরিয়ার ওই দুই সেনাকে জীবিত আটক করেছিল। পরে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর পর তাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

বর্তমানে যুদ্ধবন্দিদের হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ এবং গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করা হবে।