দেশে ২০২৩ সালের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) শয্যা বাড়ানোসহ চিকিৎসাসেবা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঝটিকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ জনে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম রয়েছে। তবে চলতি বছরের পরিসংখ্যানটি ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ের, আর ২০২৩ সালের হিসাবটি পুরো বছরের। ফলে দুটি সময়কালের তথ্য তুলনা করার ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর করতে হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য আইসিইউ শয্যা বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে কারও কারও শারীরিক অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, শয্যা এবং দক্ষ জনবল থাকলে রোগীদের সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ে। এ কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের প্রস্তুতি ও চিকিৎসাসেবার মান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের কোন কোন বিভাগ পর্যালোচনা করা হয়েছে কিংবা তাৎক্ষণিকভাবে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
২০২৩ সালের সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর তুলনা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশে মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই বছর এ রোগে মৃত্যু হয়েছিল ১ হাজার ৭০৫ জনের। অন্যদিকে, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর সকাল ৮টা পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩ হাজার ৩৯৬ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩১৬।
সংখ্যার হিসাবে, ২০২৩ সালের পুরো বছরের তুলনায় চলতি বছরের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৩ কম। একইভাবে মৃত্যুর সংখ্যা কম ১ হাজার ৩৮৯। এই হিসাবগুলো দুই সময়কালের মোট সংখ্যার পার্থক্য তুলে ধরে; এগুলো দিয়ে এককভাবে রোগের তীব্রতা বা মৃত্যুঝুঁকির পরিবর্তন নির্ধারণ করা যায় না।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীও ২০২৩ সালের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কম থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে এখানে উল্লেখ করা পরিসংখ্যান মূলত আক্রান্ত ও মৃত্যুর মোট সংখ্যা। প্রকৃত আক্রান্তের হার বা মৃত্যুহার নির্ণয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জনসংখ্যা এবং আক্রান্ত রোগীদের তুলনায় মৃত্যুর অনুপাতসহ অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।
চিকিৎসাসেবা জোরদারে আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে আইসিইউ শয্যা বাড়ানোসহ চিকিৎসাসেবা জোরদারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। গুরুতর রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মতো পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গুর বিস্তার কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ২০২৩ সালের তুলনায় চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মোট সংখ্যা কম থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বছরের বাকি সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা জানতে পরবর্তী সময়ের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ হবে।