Loading...

  • 17 Oct, 2026
সর্বশেষ

তিন নতুন আইনে মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে, অভিযোগ এইচআরডব্লিউর

তিন নতুন আইনে মানবাধিকার সুরক্ষা দুর্বল হয়েছে, অভিযোগ এইচআরডব্লিউর

জাতীয় সংসদে সেপ্টেম্বর মাসে পাস হওয়া তিনটি আইন বাংলাদেশের মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির দাবি, নতুন আইনগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নেওয়া মানবাধিকার সুরক্ষার কয়েকটি সংস্কারকে বাতিল বা সীমিত করেছে।

এইচআরডব্লিউ বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায়। সংস্থাটি বলেছে, নতুন আইনগুলোর কারণে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধে আগে নেওয়া কিছু ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা, তদন্তের ক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহির বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে তারা।

৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬সহ তিনটি বিল পাস হয়। একই দিনে সম্পত্তি হস্তান্তর-সংক্রান্ত একটি বিলও পাস করা হয়। সংসদে পাস হওয়া বিলগুলোর সরকারি উদ্দেশ্য ছিল মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার, গুমকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নতুন আইনি বিধান প্রবর্তন করা।

তবে এইচআরডব্লিউর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত নতুন আইনে কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা আগের অধ্যাদেশের তুলনায় সীমিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের সুযোগ কমেছে বলে সংস্থাটি দাবি করেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিবেদন চাওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কমিশনের নিজস্ব তদন্তের ক্ষমতা নিয়ে আইনে সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে এইচআরডব্লিউ উল্লেখ করেছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সরকারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে কমিশনের বাজেট ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা এবং আটককেন্দ্র পরিদর্শন ও নজরদারির ব্যবস্থার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে তারা। এইচআরডব্লিউর মতে, এসব পরিবর্তন কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে অভিযোগ গ্রহণ, অনুসন্ধান, তদন্ত ও নিষ্পত্তির বিষয়ে কমিশনকে বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সরকারি আইনভান্ডারে থাকা ওই অধ্যাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি তথ্য প্রকাশকারী ও সাক্ষীর সুরক্ষা এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার বিধানও ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের আইনের মাধ্যমে ওই কাঠামো পরিবর্তন করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর উদ্বেগের আরেকটি বিষয় জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত আইন। সংস্থাটির দাবি, এই আইনেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় করা কিছু সংস্কার পরিবর্তন করা হয়েছে। একই সঙ্গে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে নতুন বাহিনী গঠনের আইনি কাঠামো নিয়েও সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে।

তবে সংসদে পাস হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট বিলগুলোর সরকারি উদ্দেশ্য হিসেবে মানবাধিকার সুরক্ষা জোরদার এবং গুমের মতো অপরাধকে শাস্তিযোগ্য করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে নতুন আইনগুলোর ঘোষিত উদ্দেশ্য এবং সেগুলোর বাস্তব প্রয়োগ ও মানবাধিকার সুরক্ষায় সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও কার্যকর তদন্তক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন আইনগুলো বাস্তবে এসব ক্ষমতা কীভাবে প্রয়োগের সুযোগ দেবে এবং এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসবে, তা আইনগুলোর প্রয়োগের ওপরও নির্ভর করবে।