Loading...

  • 25 Oct, 2026
সর্বশেষ

সেপ্টেম্বরজুড়ে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু ১৪ জনের

সেপ্টেম্বরজুড়ে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ, প্রতিদিন গড়ে মৃত্যু ১৪ জনের

সেপ্টেম্বর মাসে সারা দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৭৪ জন। অর্থাৎ পুরো মাসের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১৪ জন মানুষের প্রাণ গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়। নিহতদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১ জন শিশু রয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনাবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেশি

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে একক যান হিসেবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সবচেয়ে বেশি হয়েছে। মাসটিতে ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ৩২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

দুর্ঘটনায় পথচারীদের প্রাণহানিও উল্লেখযোগ্য। সেপ্টেম্বর মাসে ১০৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া বিভিন্ন দুর্ঘটনায় যানবাহনের ৫৩ জন চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন। মোট প্রাণহানির হিসাবে তাদের অংশ ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

কোন ধরনের দুর্ঘটনা বেশি

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। সেপ্টেম্বরে এ ধরনের ১৬৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ শতাংশ। এরপর পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা রয়েছে ১০৯টি, যা মোট দুর্ঘটনার ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

এ ছাড়া ৯৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে, যার হার ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ। পেছন থেকে আঘাতের ঘটনায় ঘটেছে ৬১টি দুর্ঘটনা, যা মোটের ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যান্য কারণে ঘটেছে আরও ছয়টি দুর্ঘটনা।

আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনা বেশি

সড়কের ধরন অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। এসব সড়কে ১৭৮টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ। জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ১৪৫টি দুর্ঘটনা। এছাড়া গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি এবং শহরের সড়কে ৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ১৩ জন শিক্ষক, তিনজন সাংবাদিক, দুইজন চিকিৎসক ও চারজন প্রকৌশলী রয়েছেন। এছাড়া দুই পুলিশ সদস্য, একজন সেনাসদস্য, ব্যাংক-বিমা খাতের ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ১৮ জন এনজিও কর্মী, ২৪ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ২৫ জন ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

ঢাকা বিভাগে প্রাণহানি সর্বাধিক

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বর মাসে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ১৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে গাজীপুরে; সেখানে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন।

রাজধানী ঢাকায় সেপ্টেম্বর মাসে ৫২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত এবং ৪৭ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি তুলনামূলক কম ছিল। সেখানে ২০টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত হয়েছেন।

অতিরিক্ত গতি অন্যতম কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল অতিরিক্ত গতি। দ্রুতগতির কারণে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ার ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। পাশাপাশি যানবাহনের ত্রুটি, চালকদের অদক্ষতা ও অন্যান্য সড়ক ব্যবস্থাপনার সমস্যাও দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংস্থাটি সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গতি নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো এবং চালকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একইসঙ্গে পথচারীদের সচেতনতা বাড়াতেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

নৌ ও রেলপথেও প্রাণহানি

সেপ্টেম্বর মাসে শুধু সড়কপথেই নয়, নৌ ও রেলপথেও দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে ১১টি নৌদুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, সাতজন আহত এবং চারজন নিখোঁজ হয়েছেন। একই সময়ে ২৩টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ ও পথচারী সচেতনতার গুরুত্বকে সামনে এনেছে।