সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের স্বর্ণালংকার ও অর্থসম্পদের ঝলক দেখাতেন ভারতের তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীর জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মধুমিতা। তবে সেই প্রকাশ্য প্রদর্শনীকে ঘিরে এবার তার বাড়িতে ঘটে গেল বড় ধরনের চুরির ঘটনা। দিনে-দুপুরে তার পারিবারিক বাড়িতে ঢুকে লকার ভেঙে প্রায় এক কোটি রুপির স্বর্ণ, হীরার গয়না ও নগদ অর্থ চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নাগেরকয়েলের ভিআইপি গার্ডেন এলাকায় অবস্থিত মধুমিতার পারিবারিক বাড়িতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মধুমিতার অনুসারীর সংখ্যা সাড়ে চার লাখেরও বেশি। নিয়মিত রিলস ও বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশের কারণে তিনি ওই এলাকায় পরিচিত মুখ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেনাকাটা করতে বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন মধুমিতা। এ সময় বাড়িটি ফাঁকা ছিল। সেই সুযোগে চোরের দল বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তারা মধুমিতার শোবার ঘরে থাকা লকার ভেঙে মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
চুরির ঘটনায় প্রায় ১২০ ভরি স্বর্ণ ও হীরার গয়না এবং নগদ ৫০ হাজার রুপি খোয়া গেছে বলে জানা গেছে। চুরি হওয়া এসব সম্পদের মোট মূল্য প্রায় এক কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা কেনাকাটা শেষে বাড়িতে ফিরে লকার ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। লকারের ভেতরে থাকা মূল্যবান সামগ্রীও তখন আর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কীভাবে চোরেরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেছিল, তারা কতক্ষণ সেখানে ছিল এবং চুরির সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মধুমিতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করেন। তার রিলস ও ভিডিওতে স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীর উপস্থিতিও দেখা গেছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদের তথ্য প্রকাশের বিষয়টি ঘটনাটির পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মধুমিতার কনটেন্টের সঙ্গে চুরির সরাসরি কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করছে। চোরেরা আগে থেকেই বাড়ির বিষয়ে তথ্য জানত কি না কিংবা পরিবারের বাইরে থাকার সময় সম্পর্কে কোনোভাবে অবগত হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
দিনের বেলায় পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকার সুযোগে এমন বড় চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদ, বাসার নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন চলাফেরার তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের তদন্ত শেষ হলে চুরির পেছনে জড়িতদের পরিচয় এবং কীভাবে লকার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ, হীরা ও নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। বর্তমানে চুরি যাওয়া সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।