Loading...

  • 17 Oct, 2026
সর্বশেষ

রাড্ডা ভাঙচুরে পুলিশের গাফিলতি, শাহ আলী থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা

রাড্ডা ভাঙচুরে পুলিশের গাফিলতি, শাহ আলী থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের দায়িত্বে অবহেলা ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রাড্ডা এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনায় শাহ আলী থানার ওসির দায়িত্ব পালনে অবহেলা ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে শাহ আলী থানাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি সেন্টারে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে সেখানে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরীকে মারধর করে বেঁধে রাখে।

পরে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সেন্টারের পূর্ব পাশে থাকা একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। মামলার অভিযোগে ওই স্থাপনা ভাঙচুরে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু স্থাপনা ভাঙচুর নয়, সেন্টার থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রীসহ মূল্যবান যন্ত্রপাতি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি এবং তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যাওয়া হয়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশ উপস্থিত ছিল। এমনকি সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশের একটি গাড়ি বাইরে থাকা অবস্থায় কেন্দ্র থেকে মালামাল পিকআপে তোলার দৃশ্য দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছিলেন ডিএমপি কমিশনার।

ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে ভাঙচুরের ঘটনার দুই দিন পর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যে দায়িত্বে অবহেলার কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। ফলে রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা আরও গুরুত্ব পেয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই সংবাদ সম্মেলনে আরও জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় সরকার আমলে নেবে না। চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এখন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে পুলিশের কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফলে তদন্তের পর ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়টিও আরও স্পষ্ট হতে পারে।