ম্যাচ পাতানোর অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকায় জার্মানির বিপক্ষে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নতুন সমস্যায় পড়েছে আইভরি কোস্ট। দলের তরুণ স্ট্রাইকার এলিয়ে ওয়াহি প্রশাসনিক অনুমোদন না পাওয়ায় কানাডায় যেতে পারেননি। ফলে দলের সঙ্গে টরন্টোয় ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে তাকে।
এক বিবৃতিতে আইভরি কোস্ট ফুটবল ফেডারেশন (এফআইএফ) জানিয়েছে, ওয়াহিকে ঘিরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও তথ্য তাদের নজরে এসেছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো বিচারিক বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ফেডারেশনকে তার বিরুদ্ধে চলমান কোনো প্রক্রিয়ার বিষয়ে অবহিত করেনি।
ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়, কঠিন এই সময়ে ওয়াহির পাশে থাকবে এফআইএফ এবং তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে। জাতীয় দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে তার অবদানকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এফআইএফ আরও জানিয়েছে, কানাডায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় ওয়াহি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করবেন। ফলে দলের বাকি সদস্যরা টরন্টোয় গেলেও তিনি তাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারছেন না।
২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এর আগে ফরাসি ক্লাব ওজিসি নিস-এর হয়ে খেলার সময় ম্যাচ ফিক্সিং-সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের মুখে পড়েন। বিশ্বকাপ শুরুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। তবে পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।
বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে স্কোয়াডে ছিলেন ওয়াহি। সেই ম্যাচে ১-০ গোলের জয় দিয়ে আসর শুরু করে আফ্রিকার দলটি। তবে পরবর্তী ম্যাচের আগে তার অনুপস্থিতি দলের আক্রমণভাগে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
আগামী ২১ জুন ‘ই’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জার্মানির মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দলের অন্যতম স্ট্রাইকারকে না পাওয়া কোচিং স্টাফের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াহির ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে। ফেডারেশন আশা করছে, প্রশাসনিক ও আইনি বিষয়গুলো দ্রুত পরিষ্কার হলে তিনি আবারও দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন।