বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ড্র করে অভিযান শুরু করেছিল মরক্কো। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এসে পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ইসমায়েল সাইবারির ম্যাচের শুরুতেই করা একমাত্র গোলে স্কটল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে মরক্কো।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে নামে মরক্কো। এর ফলও পেয়ে যায় খুব দ্রুত। খেলা শুরুর মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি নিখুঁত পাস পেয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান ইসমায়েল সাইবারি। তার এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
শুধু ম্যাচের একমাত্র গোলই নয়, এটি চলমান বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবেও রেকর্ড গড়েছে। এর আগে টুর্নামেন্টে দ্রুততম গোলের রেকর্ড ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের সাদিলেকের দখলে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করে তিনি সেই কীর্তি গড়েছিলেন। তবে সাইবারি মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করে সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।
এছাড়া চলমান বিশ্বকাপে এটি সাইবারির দ্বিতীয় গোল। এর আগে ব্রাজিলের বিপক্ষেও গোল করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে তিনি এখন মরক্কোর আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে স্কটল্যান্ড। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ইউরোপের দলটি। একাধিকবার মরক্কোর রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি তারা।
ম্যাচের শেষ দিকে স্কটিশ ফুটবলাররা দুটি পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানান। তবে উভয় ক্ষেত্রেই খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন ম্যাচের রেফারি। রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও কোনো সুবিধা আদায় করতে পারেনি স্কটল্যান্ড।
অন্যদিকে, এক গোলের লিড ধরে রাখতে রক্ষণভাগে শৃঙ্খলাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয় মরক্কো। প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলে পাল্টা আক্রমণেও কয়েকবার সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। তবে ব্যবধান আর বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে মরক্কো। এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট যোগ হয়েছে তাদের ঝুলিতে। স্কটল্যান্ডকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে আফ্রিকার দেশটি।
নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে এই জয় মরক্কোর জন্য বড় আত্মবিশ্বাস হয়ে থাকবে। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ। পরবর্তী ম্যাচে ইতিবাচক ফল না পেলে তাদের বিশ্বকাপ যাত্রা কঠিন হয়ে যেতে পারে।