জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজিত বিশেষ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীদের নিয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে মেলানিয়া ট্রাম্প তার নতুন বৈশ্বিক শিশু কল্যাণ উদ্যোগ ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ তুলে ধরেন। শিশুদের নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
নিউইয়র্কে বিশেষ আয়োজন
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে মেলানিয়া ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট স্পাউস ও নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে এ বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেন। সেখানে ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। মেলানিয়া ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হয় এবং শিশুদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় সামনে আসে।
‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষা, প্রযুক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা এবং অনলাইন নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
শিশু কল্যাণে বাংলাদেশের অবস্থান
ডা. জুবাইদা রহমান এর আগেও মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে শিশু কল্যাণবিষয়ক আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। চলতি বছরের মার্চে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ অংশ নিয়ে তিনি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতির বিষয়ও তুলে ধরেন।
ওই সম্মেলনে বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীরা অংশ নেন। সম্মেলনের আলোচনায় শিশুদের কল্যাণ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয় গুরুত্ব পায়। ডা. জুবাইদা রহমান সেখানে বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি ও শিশুদের ভবিষ্যৎ
শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রযুক্তির ভূমিকার বিষয়টিও মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগে গুরুত্ব পেয়েছে। মার্চের ওয়াশিংটন সম্মেলনের পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে শিশুদের শিক্ষা ও উন্নয়নে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক আয়োজনেও শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিশুদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ তৈরিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও তুলে ধরেছেন ডা. জুবাইদা রহমান।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র
মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানের এ বৈঠক শুধু সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। শিশুদের কল্যাণে ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতার আগ্রহের কথাও জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শিশুদের কল্যাণে কাজ করার বিষয়ে তাদের মধ্যে সমঝোতার কথা হয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সফরের অংশ হিসেবে ডা. জুবাইদা রহমানের এ অংশগ্রহণ শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনায় বাংলাদেশের সম্পৃক্ততাকে সামনে এনেছে। মার্চের ওয়াশিংটন সম্মেলনের পর সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কের আয়োজনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতাও স্পষ্ট হয়েছে।