রাজধানীর লালবাগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী শারমিন সুলতানা সর্মিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪৪ বছর বয়সী শারমিন সুলতানাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে লালবাগ থানাধীন শেখ সাহেব বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শারমিন সুলতানা সর্মির শেখ সাহেব বাজার এলাকায় অবস্থানের খবর পায় লালবাগ থানা পুলিশ। পরে তথ্য যাচাই করে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর শারমিন সুলতানার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
আওয়ামী লীগ ও যুব মহিলা লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন
পুলিশ ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে শারমিন সুলতানা সর্মির রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের তথ্য উঠে এসেছে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের একটি উপকমিটির সম্পাদক বা সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রাজনৈতিক সংগঠনের এসব পদে দায়িত্ব পালন করার কারণে শারমিন সুলতানা সর্মির গ্রেপ্তারের ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনায় এসেছে। তবে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী বক্তব্যের ওপরই বিস্তারিত তথ্য নির্ভর করবে।
পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর তথ্য
শারমিন সুলতানার গ্রেপ্তার নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে মামলার বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে লালবাগের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর একটি পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে জাগোনিউজ ও যুগান্তরের প্রতিবেদনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে।
ফলে মামলার ধারা, অভিযোগের ধরন এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে পুলিশের আনুষ্ঠানিক নথি ও আদালতের কার্যক্রম থেকে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
গ্রেপ্তারের পর আইনগত প্রক্রিয়া
পুলিশ জানিয়েছে, শারমিন সুলতানা সর্মির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে উপস্থাপন করা এবং তদন্তের প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলবে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি। তিনি মামলার একজন সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে মামলার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
রাজধানীর লালবাগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় আইনগত পদক্ষেপের মধ্যে শারমিন সুলতানা সর্মির গ্রেপ্তারের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকেই নজর রয়েছে।