জয়ের ফলে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৪, যা গ্রুপের আরেক দল কানাডার সমান। তবে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় আপাতত তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইউরোপের দেশটি। ফলে নকআউট পর্বে জায়গা হবে কি না, তা জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে তাদের।
অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য জয় প্রয়োজন ছিল কাতারের। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পরাজয়ের ফলে বিশ্বকাপ মিশন শেষ হয়ে গেছে তাদের। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে থাকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে তারা। সেই চাপের ফলও আসে ম্যাচের ২৯তম মিনিটে।
মাত্র ১৮ বছর বয়সী Kerim Alajbegovic প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়ে বল জালে পাঠান। তার এই গোলেই এগিয়ে যায় বসনিয়া। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম লেখান এই তরুণ ফুটবলার।
প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আরও বিপদে পড়ে কাতার। ম্যাচের ৩৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। বাম দিক থেকে আসা আক্রমণে Sead Kolasinac-এর ক্রস এবং Edin Dzeko-এর ভলি থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে আত্মঘাতী গোল করেন কাতারের Sultan Al-Brake। তার পায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে গেলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বসনিয়া।
তবে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি কাতার। বিরতির আগে আক্রমণে উঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল শোধ করে তারা। কাতারের অভিজ্ঞ অধিনায়ক Hassan Al-Haydos গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন। ফলে প্রথমার্ধ শেষে লড়াইয়ে ফিরে আসার আশা নিয়ে ড্রেসিংরুমে যায় কাতার।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কাতার সমতায় ফেরার চেষ্টা চালালেও বসনিয়ার রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত। একই সঙ্গে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে ইউরোপীয় দলটি।
অবশেষে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে জয় নিশ্চিত করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। গোল করেন Ermin Mahmic। তার গোলেই ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দলটি এবং ম্যাচের ভাগ্যও প্রায় নির্ধারিত হয়ে যায়।
বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। এই জয়ে তারা পূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করে নকআউট পর্বে খেলার সম্ভাবনা জিইয়ে রাখলেও ভাগ্য নির্ধারণের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর দিকে।
অন্যদিকে, তিন ম্যাচ শেষে হতাশাজনক পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে কাতারকে। নিজেদের সমর্থকদের সামনে বড় স্বপ্ন নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি দলটি।