বুধবার (২৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের New York City-এ অনুষ্ঠিত United Nations General Assembly এবং United Nations Economic and Social Council-এর যৌথ থিম্যাটিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ আহ্বান জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি Salahuddin Noman Chowdhury।
দোহা কর্মসূচি (ডিপিওএ) বাস্তবায়নের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বিষয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় অনেক এলডিসি দেশ বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বৈশ্বিক ঋণ পরিস্থিতির অবনতি এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তাদের উন্নয়ন অগ্রগতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব দেশের উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশেষ করে উন্নয়ন অংশীদারদের দেওয়া প্রতিশ্রুত বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উত্তরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জও যুক্ত থাকে। এ কারণে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে বাংলাদেশ উত্তরণকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, এলডিসি দেশগুলোর জন্য শুধু উত্তরণের আগের সময় নয়, বরং উত্তরণের সময়কাল এবং পরবর্তী পর্যায়েও আন্তর্জাতিক সহায়তা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার বজায় রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী আরও বলেন, এলডিসিগুলোর জন্য বৈশ্বিক বাণিজ্য সুবিধা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হলে এসব দেশ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও সক্ষম হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের মার্চে Qatar-এ অনুষ্ঠিতব্য দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা সম্মেলন এলডিসি এবং উত্তরণশীল দেশগুলোর জন্য গৃহীত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে নতুন গতি সঞ্চার করবে। একই সঙ্গে সম্মেলনটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তব ফলাফল অর্জনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এলডিসি দেশগুলোর উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখতে আন্তর্জাতিক সহায়তা, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে উন্নয়ন সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো টেকসই উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যেতে পারবে।